স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বাংলাদেশে গুমের অপসংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে চায় সরকার। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও কাস্টোডিয়াল ডেথও বন্ধ করা হবে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, বিরোধীদল আন্দোলন করছে, তারা সংসদে এলে আরও ভালো আলোচনা হতো। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে তিনি বলেন, এর কোনো বিকল্প নেই এবং বিভিন্ন প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৈঠকে গুম ও খুনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং ভবিষ্যতে যাতে আর এমন ঘটনা না ঘটে সেজন্য আইন তৈরির আবেদন জানান।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভা বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় গুম ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে তারা আইন প্রণয়নের জন্য অনুরোধ জানান। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বাংলাদেশে গুমের অপসংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে চায় সরকার। তিনি আরও জানান, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও কাস্টোডিয়াল ডেথও বন্ধ করা হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য, এখনও নিখোঁজ থাকা ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজন এবং ফিরে আসা ব্যক্তিদের প্রতিনিধিদের সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মূল দাবি হলো ভবিষ্যতে যেন কেউ গুমের শিকার না হন। গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা তাদের প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষা, নির্যাতনের অভিজ্ঞতা এবং ন্যায়বিচার ও পুনর্বাসনের দাবি তুলে ধরেছেন। সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছে এবং তাদের আবেদনগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমরা চাই, বাংলাদেশে আর কখনও এমন সময় ফিরে না আসুক। গুমের অপসংস্কৃতি ও অপরাধ চিরতরে বন্ধ হোক।' তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে বলেন যে এর কোনো বিকল্প নেই এবং বিভিন্ন প্রস্তাব বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিরোধী দলগুলো আন্দোলন করছে এবং তারা সংসদে উপস্থিত থাকলে আরও ফলপ্রসূ আলোচনা সম্ভব হতো।
মুঠোখবর ডেস্ক · ২টি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন মিলিয়ে: এনটিভি অনলাইন, আলোকিত বাংলাদেশ