নওগাঁয় এক যুবক তার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা অবস্থায় আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করার পর স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন। গতকাল সোমবার রাতে জেলার মহাদেবপুর উপজেলার একটি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ওই যুবক ও তার দুই স্ত্রীর মুখে চুনকালি মেখে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে গ্রামছাড়া করে।
ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। জানা যায়, ওই যুবক নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং এক আইনজীবীর সহকারী। তিনি তার শ্যালিকাকে বিয়ে করার পর এলাকায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। ধর্মানুযায়ী একসঙ্গে দুই বোনকে বিয়ে করার বিধান নেই উল্লেখ করে তাদের ভাড়া বাসা ছেড়ে দিতে বলা হয়। পরে দুই স্ত্রীকে নিয়ে তিনি মহাদেবপুর উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নিতে গেলে স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হয়ে তাদের মারধর করে গ্রাম থেকে বের করে দেয়।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
নওগাঁয় এক যুবক তার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা অবস্থায় আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করার পর স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন। ভুক্তভোগী মাসুদ রানা, বয়স ৩৫, নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং তিনি একজন আইনজীবীর সহকারীর পেশায় নিযুক্ত। তিনি গত রোববার সন্ধ্যায় শ্যালিকা পূর্ণিমাকে (২১) বিয়ে করেন। বিয়েটি প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর (২৮) সম্মতিতে হয়েছে বলে মাসুদ রানা জানান। বিয়ের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। মাসুদ রানা দাবি করেছেন যে তার প্রথম স্ত্রী মৌসুমী (২৮) এই বিয়েতে সম্মতি দিয়েছিলেন। ধর্মানুযায়ী একসঙ্গে দুই বোনকে বিয়ে করার বিধান নেই উল্লেখ করে তাঁদের ভাড়া বাসা ছেড়ে দিতে বলা হয়।
এ অবস্থায় গতকাল সোমবার রাতে দুই স্ত্রীকে নিয়ে মহাদেবপুর উপজেলার শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নিতে গেলে স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হয়ে তাঁদের মারধর করে গ্রামছাড়া করে। ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ইসলামী বিধান অনুসারে, প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় তার আপন বোনকে বিয়ে করা নাজায়েজ। এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।
মুঠোখবর ডেস্ক · ২টি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন মিলিয়ে: প্রথম আলো, ঢাকা পোস্ট