আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি দুই বছর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে। এটি শুধু কংগ্রেসের আসন দখলের লড়াই নয়, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের প্রতি ভোটারদের সমর্থন যাচাইয়েরও একটি পরীক্ষা। এবারের নির্বাচনে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ একে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভর করবে ট্রাম্প তাঁর মেয়াদের বাকি সময়ে কতটা নির্বিঘ্নে আইন প্রণয়ন ও নীতিগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবেন। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে তাঁর প্রশাসনকে বিরোধী দলের বাধার মুখে পড়তে হতে পারে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারি ও তদন্তের সুযোগ পাবেন।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি চার বছর পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হলেও, মেয়াদের দুই বছর পর নভেম্বরে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যা মধ্যবর্তী নির্বাচন নামে পরিচিত। এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে ভোট হয় না, বরং ভোটারেরা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ও উচ্চকক্ষ সিনেটের সদস্য এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচন করেন। প্রতিনিধি পরিষদের দুই বছর মেয়াদী সব আসনে এবং সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫টিতে (৩৩টি নিয়মিত, ২টি বিশেষ) নির্বাচন হবে। এই নির্বাচন কেবল আইনপ্রণেতা নির্বাচন নয়, বরং ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের কাজের প্রতি নাগরিকদের সন্তুষ্টিও প্রকাশ করে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে এই মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি দুই বছর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে তা নির্ধারণ করবে। এটি কেবল কংগ্রেসের আসন দখলের লড়াই নয়, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের প্রতি ভোটারদের সমর্থন যাচাইয়েরও একটি পরীক্ষা। নির্বাচনী প্রচারণায় দুই দলই বিপুল অর্থ ব্যয় করছে; ১২ অক্টোবর পর্যন্ত নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে রেকর্ড ৩৮০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি সময়ে আইন প্রণয়ন ও নীতি বাস্তবায়নের ওপর প্রভাব ফেলবে।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্প প্রশাসন বিরোধী দলের বাধার সম্মুখীন হতে পারে, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের কাজে নজরদারি ও তদন্তের সুযোগ পাবে। এই নির্বাচন ঘিরে দুই দলের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনাও এখন তুঙ্গে। ইউএস ভোট ফাউন্ডেশন অনুযায়ী, মধ্যবর্তী নির্বাচন মূলত কংগ্রেস বা আইনসভার নির্বাচন। এই নির্বাচনের জন্য প্রার্থিতা যাচাই প্রক্রিয়া নির্বাচনের এক বছর আগেই শুরু হয়।
মুঠোখবর ডেস্ক · ২টি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন মিলিয়ে: প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার