পূজার মৌসুম শেষ না হতেই বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে কলকাতার আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। আগামী সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়ে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, নিম্নচাপটি রোববার গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে এবং সোমবার সকালে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। মৎস্যজীবীদের আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) থেকে সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। উপকূলীয় জেলাগুলোতে আবহাওয়া প্রতিকূল হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
পূজার মৌসুম শেষ না হতেই বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি লঘুচাপ শক্তিশালী হচ্ছে। এটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ, এরপর নিম্নচাপ ও গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিভিন্ন আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থা। পূর্ব-মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে থাকা নিম্নচাপটি শক্তিশালী হচ্ছে এবং রোববার এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে জানিয়েছে কলকাতার আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছে, আগামী ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মধ্য বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে এবং পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এই নিম্নচাপ আগামী সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টি শক্তি সঞ্চয় করে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং কাকিনাড়ার কাছে স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে বলে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় জেলাগুলোতে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। বিডব্লিউওটি সম্ভাব্য বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষি খাতে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছে; বিশেষ করে পাকা ধান বৃষ্টিতে ভিজে গেলে পচন বা অঙ্কুরোদ্গম হওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
মুঠোখবর ডেস্ক · ৪টি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন মিলিয়ে: জাগো নিউজ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, চ্যানেল 24, যুগান্তর